সার্কিট ব্রেকার ০৩/১০/২০২৬
ডিস্ট্রিবিউশন বক্সে কিছু ব্রেকার এক ঘরের, আবার কিছু দুই ঘর জুড়ে বসানো দেখা যায়। এগুলোই সিঙ্গেল পোল ও ডাবল পোল ব্রেকার। দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝা থাকলে ইলেকট্রিশিয়ানের সঙ্গে কথা বলা সহজ হয়।
পোল বলতে কী বোঝায়
পোল মানে হলো ব্রেকার লাইনের কতগুলো পথ একসঙ্গে কেটে দিতে পারে। আমাদের বাড়ির সিঙ্গেল ফেজ সংযোগে সাধারণত দুটি তার থাকে। একটি ফেজ বা লাইভ, অন্যটি নিউট্রাল। ব্রেকার এই দুই তারের কোনটিকে কাটবে, তার ওপর ভিত্তি করেই সিঙ্গেল ও ডাবল পোলের ভাগ।
সিঙ্গেল পোল ব্রেকার
সিঙ্গেল পোল ব্রেকার শুধু ফেজ তারটি কেটে দেয়। নিউট্রাল তার লাইনের সঙ্গে যুক্তই থাকে। এটি তুলনামূলক ছোট এবং বাড়ির আলো, পাখার মতো সাধারণ শাখা সার্কিটে বহুল ব্যবহৃত হয়।
ডাবল পোল ব্রেকার
ডাবল পোল ব্রেকার ফেজ ও নিউট্রাল, দুটি তারকেই একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে। ফলে ব্রেকার বন্ধ করলে সেই সার্কিট দুই দিক থেকেই লাইন থেকে আলাদা হয়ে যায়। এজন্য মূল সুইচ হিসেবে এবং কিছু ভারী যন্ত্রের সার্কিটে ডাবল পোল ব্রেকারের প্রচলন বেশি।
দুটির মধ্যে সারাংশ
- সিঙ্গেল পোল: এক পথ বিচ্ছিন্ন করে, আকারে ছোট, সাধারণ শাখা সার্কিটে ব্যবহৃত।
- ডাবল পোল: দুই পথ একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে, মূল সংযোগ বা ভারী লোডের সার্কিটে বেশি দেখা যায়।
- দুই ক্ষেত্রেই অ্যাম্পিয়ার রেটিং সার্কিটের তার ও লোড অনুযায়ী ঠিক করতে হয়।
কোনটি লাগবে, সিদ্ধান্ত কে নেবেন
কোন সার্কিটে কোন ধরনের ব্রেকার ব্যবহার হবে, তা বাড়ির নকশা, লোড এবং তারের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। এটি অনুমান করে ঠিক করার বিষয় নয়। যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান বা প্রকৌশলীই এই সিদ্ধান্ত নেবেন। বাড়ির মালিক হিসেবে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে ব্রেকারগুলো মান বজায় রাখা নির্মাতার তৈরি, ঠিকমতো বসানো এবং বক্সের ভেতর পরিপাটি আছে।
ব্রেকার বদলানো বা নতুন যোগ করার দরকার হলে ঝুঁকি নেবেন না। মূল সুইচ বন্ধ করে ইলেকট্রিশিয়ানকে দিয়ে কাজটি করান। বক্সের ঢাকনা নিজে খুলে কিছু করার চেষ্টা করবেন না।
কপারের সার্কিট ব্রেকার বিভাগে সিঙ্গেল পোল ও ডাবল পোল দুই ধরনের MCB রয়েছে। কেনার আগে আপনার ইলেকট্রিশিয়ানকে জিজ্ঞেস করে নিন কোন সার্কিটে কোনটি দরকার।
কেনার সময় কী দেখবেন
ব্রেকারের গায়ে লেখা অ্যাম্পিয়ার রেটিং, পোলের সংখ্যা ও নির্মাতার নাম স্পষ্ট পড়া যায় কি না দেখুন। হাতল শক্ত ও মসৃণভাবে ওঠানামা করছে কি না, শরীরে ফাটল বা পোড়া দাগ আছে কি না, তা-ও লক্ষ করুন। অচেনা দোকানের খুব সস্তা বা আলগা প্যাকেটের ব্রেকার এড়িয়ে চলাই ভালো। আপনার ইলেকট্রিশিয়ান কোন রেটিং চেয়েছেন, তা লিখে নিয়ে গেলে ভুল কেনার সম্ভাবনা কমে।
সংক্ষেপে, নামের পার্থক্য আসলে কাজের পরিধির পার্থক্য। কী লাগবে তা জানতে বিশেষজ্ঞের কাছে যান, আর নিজে বক্স খোলার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।