নিরাপত্তা ০৬/০৮/২০২৬
হামাগুড়ি দেওয়া বা সদ্য হাঁটতে শেখা শিশুর কাছে সবকিছুই নতুন ও আকর্ষণীয়। দেয়ালের ছোট ছোট ছিদ্রসহ সকেটও তাদের কৌতূহল জাগায়। তাই শিশু থাকলে সকেট ও সুইচের ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক হওয়া দরকার।
ঝুঁকি কোথায়
শিশুরা আঙুল, চাবি, কলম বা অন্য কোনো বস্তু সকেটের ছিদ্রে ঢুকিয়ে দিতে পারে। এছাড়া ঝুলে থাকা তার মুখে দেওয়া বা টেনে নামানোর প্রবণতাও দেখা যায়। এসব থেকে গুরুতর বিপদ ঘটতে পারে, তাই আগেই প্রতিরোধ জরুরি।
সহজ প্রতিরোধ ব্যবস্থা
- ব্যবহার না হওয়া সকেটে সুরক্ষা ঢাকনা বা শিশু-নিরাপদ কভার লাগান।
- সম্ভব হলে নিচু উচ্চতার সকেট এমন আসবাব দিয়ে আড়াল করুন, যা সহজে সরানো যায় না।
- সুইচযুক্ত সকেটে ব্যবহারের পর সংযোগ বন্ধ রাখুন।
- ঝুলে থাকা তার গুছিয়ে রাখুন এবং খোলা এক্সটেনশন বোর্ড মেঝেতে ফেলে রাখবেন না।
- ভাঙা বা ফাটা প্লেট দ্রুত বদলান।
বাড়ির অভ্যাস
- ভেজা হাতে সুইচ বা প্লাগ ছোঁয়া যে নিষেধ, শিশুকে বয়স অনুযায়ী সহজভাবে বুঝিয়ে বলুন।
- চার্জার প্লাগে লাগানো অবস্থায় শিশুর নাগালে ফেলে রাখবেন না।
- ঘর থেকে বেরোনোর আগে ইস্ত্রি, হিটার ও অন্যান্য যন্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।
- বাথরুমে বা পানির উৎসের কাছে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারে বাড়তি সতর্ক থাকুন।
সুরক্ষা ঢাকনা নিয়ে সচেতনতা
বাজারের সব সুরক্ষা ঢাকনা সমান কার্যকর নয়। খুব ছোট বা ঢিলা ঢাকনা শিশু নিজেই খুলে মুখে দিতে পারে, যা আরেক ধরনের ঝুঁকি। তাই এমন ঢাকনা বেছে নিন, যা শক্তভাবে বসে এবং ছোট অংশ আলগা হয় না।
পেশাদারের সাহায্য নিন
সকেটের অবস্থান বদলানো বা নতুন সকেট বসানোর পরিকল্পনা থাকলে মেইন সুইচ বন্ধ রেখে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে কাজ করান। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য ঘরে সার্কিট ব্রেকারের কথাও ভাবতে পারেন; দেখুন সার্কিট ব্রেকার বিভাগ।
বাড়ির বাইরে ও ভ্রমণেও খেয়াল রাখুন
আত্মীয়ের বাসায় বা হোটেলে গেলে শিশুকে চোখে চোখে রাখুন, কারণ অচেনা জায়গায় সকেট কেমন অবস্থায় আছে তা জানা থাকে না। শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত খেলার ছলে বোঝানো যেতে পারে যে সকেট খেলনা নয়। বড়রা নিজেরাও প্লাগ টেনে খোলা বা তারে ঝোলানো যন্ত্র রাখার ব্যাপারে ভালো উদাহরণ হতে পারেন। শিশুরা বড়দের দেখেই শেখে।
নিরাপত্তা একবারের কাজ নয়; শিশু বড় হলে তার কৌতূহল ও নাগালের পরিধিও বাড়ে। তাই মাঝে মাঝে ঘরের সুরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে ঝালিয়ে নিন।
ঘরের অতিথি, পরিচারিকা বা আত্মীয়দেরও এই নিয়মগুলো জানিয়ে রাখুন, কারণ শিশুর দেখভাল সবাই মিলে করে।
সচেতনতা আর ছোট কিছু আগাম প্রস্তুতিই শিশুদের নিরাপদ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।