বিদ্যুৎ সাশ্রয় ২৭/০৮/২০২৬
এলইডি বাতির কথা এখন সবাই শোনেন। বাজারে বিভিন্ন দামের বাতি পাওয়া যায়, তাই কোনটি নেবেন সেই প্রশ্ন স্বাভাবিক। এই লেখায় সাধারণ ধারণা দেওয়া হলো।
এলইডি কেন সাশ্রয়ী
পুরোনো ইনক্যানডেসেন্ট বাতিতে বিদ্যুতের বড় অংশ তাপ হয়ে হারিয়ে যেত, আলো হতো সামান্য। এলইডি বাতি বিদ্যুৎকে সরাসরি আলোতে বদলায় এবং তাপ কম ছাড়ে। ফলে একই পরিমাণ আলোর জন্য সাধারণত কম ওয়াট লাগে। কতটা সাশ্রয় হবে তা বাতির মান ও ব্যবহারের ঘণ্টার ওপর নির্ভর করে, তাই আমরা নির্দিষ্ট কোনো শতাংশ বলছি না।
ওয়াট নয়, লুমেন দেখুন
ওয়াট বলে বাতি কত বিদ্যুৎ নেয়, আলো কতটা দেয় তা বলে লুমেন। এলইডিতে কম ওয়াটেই বেশি লুমেন পাওয়া যায়, তাই তুলনার সময় প্যাকেটে লুমেনের মান দেখুন।
কেনার সময় যা দেখবেন
- প্যাকেটে ওয়াট ও লুমেন স্পষ্ট লেখা আছে কিনা।
- আলোর রং: হলদেটে উষ্ণ আলো শোবার ঘরে, সাদা আলো রান্নাঘর, পড়ার টেবিল বা দোকানে আরামদায়ক।
- নির্ভরযোগ্য বিক্রেতা ও গ্যারান্টির কাগজ আছে কিনা।
- বাতির হোল্ডার বা বেস আপনার ফিটিংয়ের সঙ্গে মেলে কিনা।
লাগানোর সময় সতর্কতা
বাতি বদলানোর আগে সুইচ বন্ধ করুন এবং বাতি ঠান্ডা হতে দিন। সিলিংয়ে উঁচুতে কাজ হলে স্থিতিশীল মই ব্যবহার করুন। ঢিলে হোল্ডার, গলে যাওয়া সকেট বা ঝিকমিক করা বাতির পেছনে ওয়্যারিংয়ের সমস্যা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে ইলেকট্রিশিয়ানকে ডেকে দেখান। মেইন সুইচ বন্ধ রেখে তিনি কাজ করবেন।
আলো সাজানোর কিছু কথা
পুরো ঘরে একটি জোরালো বাতির বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি আলাদা আলো রাখলে আরাম বাড়ে এবং দরকার না থাকলে কিছু বাতি বন্ধ রাখা যায়। দেয়ালের হালকা রং আলো প্রতিফলিত করে, ফলে একই বাতিতে ঘর উজ্জ্বল লাগে। বাতির ওপর ধুলো জমলে আলো কমে, তাই নিয়মিত মুছে নিন, তবে অবশ্যই সুইচ বন্ধ করে।
বাতির গায়ে বা প্যাকেটে লেখা আয়ুষ্কালের দাবি সবসময় বাস্তবে মেলে না, তাই গ্যারান্টি ও বিক্রেতার সুনাম দেখে নেওয়া ভালো। সম্ভব হলে প্রথমে এক-দুটি বাতি কিনে ব্যবহার করে দেখুন, তারপর পুরো বাসায় বদলান।
সস্তা, মানহীন বাতি কিছুদিনেই নষ্ট হলে সাশ্রয়ের পুরো উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। আলোর পাশাপাশি নিরাপদ সুইচবোর্ডও জরুরি, এজন্য সুইচ ও সকেট দেখে নিতে পারেন। বুঝেশুনে বাতি বাছাই করলে আলোও ভালো পাবেন, বিলও সামলে থাকবে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।