মাল্টিপ্লাগ ০৪/১০/২০২৬
অনেকেই মাল্টিপ্লাগ কেনার সময় শুধু পোর্টের সংখ্যা দেখেন। কিন্তু প্রতিটি পোর্টের জন্য আলাদা সুইচ আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করার মতো। এই ছোট্ট সুবিধাটি প্রতিদিনের ব্যবহারে বেশ বড় পার্থক্য তৈরি করে।
প্রতিবার প্লাগ খুলতে হয় না
সুইচ ছাড়া মাল্টিপ্লাগে কোনো যন্ত্র বন্ধ করতে হলে প্লাগ টেনে খুলতে হয়। বারবার টানাটানিতে প্লাগের পিন ও সকেটের ভেতরের অংশ ঢিলা হয়ে যেতে পারে। আলাদা সুইচ থাকলে শুধু সুইচ টিপেই কাজ হয়ে যায়, ফলে সংযোগ দীর্ঘদিন মজবুত থাকে।
দরকার মতো একটি যন্ত্র বন্ধ রাখা যায়
ধরুন, ডেস্কের মাল্টিপ্লাগে মনিটর, ল্যাপটপ চার্জার, টেবিল ল্যাম্প ও ফোন চার্জার লাগানো আছে। রাতে শুধু রাউটার চালু রাখতে চাইলে বাকি সব পোর্টের সুইচ বন্ধ করে দিলেই চলে। একটি মাত্র মাস্টার সুইচ থাকলে সবকিছু একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়, তখন আলাদা করে বাছাই করার সুযোগ থাকে না।
সুইচ ব্যবহারের কয়েকটি সুবিধা
- যে যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে না, তার সংযোগ সহজে বিচ্ছিন্ন রাখা যায়।
- স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় যে সামান্য বিদ্যুৎ খরচ হয়, তা কমানো সম্ভব।
- চার্জার লাগানো থাকলেও সুইচ বন্ধ থাকলে চার্জার অকারণে গরম হয় না।
- যন্ত্র পরিষ্কার বা সরানোর আগে দ্রুত বিদ্যুৎ বন্ধ করা যায়।
- ছোট শিশু থাকলে অব্যবহৃত পোর্ট বন্ধ রাখা বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কাজ করে।
সুইচ থাকলেই সব সমস্যা মেটে না
সুইচ বন্ধ করা মানে এই নয় যে মাল্টিপ্লাগ নিজে বিদ্যুৎমুক্ত। মূল প্লাগ দেয়ালের সকেটে লাগানো থাকলে ভেতরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ থাকতে পারে। তাই মাল্টিপ্লাগ সরানো, পরিষ্কার করা বা কিছু ঠিক করার আগে দেয়ালের সকেট থেকে প্লাগটি খুলে নিন। ভেতরে খুলে কিছু মেরামতের চেষ্টা করবেন না; তা যোগ্য ব্যক্তির কাজ।
ভালো সুইচ চেনার উপায়
সুইচ টিপলে স্পষ্ট ক্লিক শব্দ হওয়া উচিত এবং সুইচ আটকে থাকা বা আলগা লাগা উচিত নয়। কিছু মাল্টিপ্লাগে সুইচের ভেতরে ছোট আলো থাকে, যা দেখে বোঝা যায় পোর্টটি চালু কি না। রাতের অন্ধকারেও এটি কাজে আসে। কপারের মাল্টিপ্লাগ পাতায় বিভিন্ন কনফিগারেশনের পণ্য দেখে আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন।
দৈনন্দিন একটি দৃশ্য: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ডেস্কের পাশের মাল্টিপ্লাগে চারটি আলাদা সুইচ থাকলে আপনি শুধু ফোন চার্জারের সুইচটি চালু রেখে বাকি সব বন্ধ করে দিতে পারেন। কোনো প্লাগ টানাটানি নেই, তার ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় নেই। এই সহজ সুবিধাই বছরের পর বছর ব্যবহারে সংযোগগুলোকে মজবুত রাখে।
আরেকটি বিষয় হলো সুইচের নিজস্ব মান। যে সুইচ বারবার টেপার পরও শক্ত ও স্পষ্ট থাকে, সেটিই দীর্ঘদিন ভরসা দেয়। আলগা বা নরম সুইচ থাকলে সেটি গরম হতে পারে, তাই এমন মাল্টিপ্লাগ বদলে ফেলুন।
সব মিলিয়ে, আলাদা সুইচ একটি ছোট সুবিধা মনে হলেও এটি সংযোগের আয়ু বাড়ায়, ব্যবহারে আরাম আনে এবং অকারণ বিদ্যুৎ অপচয় কমাতে সাহায্য করে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।