নিরাপত্তা ২২/০৯/২০২৬
হামাগুড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়ার বয়স পর্যন্ত শিশুরা সবকিছু ধরে দেখতে চায়। সকেটের ছোট ছিদ্র, ঝুলে থাকা চার্জারের তার বা ভেজা হাতে সুইচ, সবই তাদের কাছে খেলার জিনিস। তাই বাবা-মাকে আগেভাগেই ঘর সাজাতে হয়।
ঘর শিশুর জন্য নিরাপদ করুন
সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুর নাগালের বাইরে ঝুঁকি সরিয়ে রাখা। যেসব সকেট ব্যবহার হয় না, সেগুলোতে ঢাকনাযুক্ত সকেট বা উপযুক্ত সেফটি কভার ব্যবহার করতে পারেন। সকেট সম্ভব হলে শিশুর নাগালের ওপরে বসানো ভালো। নতুন সকেট বসানো বা বদলানোর কাজ যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে করান।
প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস
- চার্জার ব্যবহারের পর সকেট থেকে খুলে রাখুন, ঝুলন্ত অবস্থায় ফেলে রাখবেন না।
- ইস্ত্রি, হিটার বা কেটলি গরম থাকা অবস্থায় শিশুর কাছে রেখে যাবেন না।
- মাল্টিপ্লাগ ও এক্সটেনশন তার মেঝেতে ছড়িয়ে না রেখে দেয়ালের পাশে গুছিয়ে রাখুন।
- ভাঙা বা তার বেরিয়ে থাকা প্লাগ সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন।
- খেলনার ব্যাটারি ও চার্জার বড়দের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করতে দিন।
শিশুকে শেখান
ভয় দেখানোর চেয়ে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা বেশি কার্যকর। বলুন যে সকেটে কিছু ঢোকাতে নেই, ভেজা হাতে সুইচ ছুঁতে নেই এবং ছিঁড়ে যাওয়া তার দেখলে ধরা যাবে না, বড় কাউকে ডাকতে হবে। একটু বড় শিশুদের মেইন সুইচ কোথায়, তাও দেখিয়ে দিন। বারবার মনে করিয়ে দিলে অভ্যাস তৈরি হয়।
বাইরে ও বিদ্যুতের খুঁটির কাছে
ঘুড়ি ওড়ানো, গাছে ওঠা বা জমা পানিতে খেলার সময় বিদ্যুতের তার, খুঁটি ও ট্রান্সফরমারের কাছ থেকে দূরে থাকতে শেখান। ধাতব সুতা বা ভেজা সুতায় ঘুড়ি ওড়ালে বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে বিপদ হতে পারে। ছাদে খেলার সময় খোলা তার আছে কি না আগে দেখে নিন।
দুর্ঘটনা ঘটলে
শিশু শক খেলে আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করুন, তারপর তাকে স্পর্শ করুন। খালি হাতে সরাসরি ধরবেন না। অল্প শক হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ কল করুন।
অতিথি ও দাদা-দাদির বাড়িতেও সতর্ক থাকুন
নিজের বাসা নিরাপদ করলেও আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশুরা নতুন নতুন সকেট ও তার দেখে কৌতূহলী হয়। সেখানে গিয়ে প্রথমেই দেখে নিন কোথায় খোলা সকেট বা ঝুলন্ত তার আছে। আপনি বাবা-মা হিসেবে চোখে চোখে রাখুন এবং বাড়ির বড়দের ভদ্রভাবে অনুরোধ করুন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা ঢেকে রাখতে। শিশুদের স্কুলে বা শিক্ষাকেন্দ্রেও বিদ্যুৎ নিরাপত্তার ছোট পাঠ দেওয়া হলে ভালো, কারণ বন্ধুদের কাছ থেকেও তারা শেখে।
শিশুর নিরাপত্তায় একটু বাড়তি খরচ ও সময় দেওয়া কখনোই বৃথা যায় না। ভালো মানের সুইচ ও সকেট ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত ঘর পরীক্ষা করুন।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।