নিরাপত্তা ০৭/০৯/২০২৬
বিদ্যুতের শক লাগা কাউকে দেখলে প্রথম প্রবৃত্তি হয় ছুটে গিয়ে ধরা। কিন্তু সেটাই সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে, কারণ আপনার শরীরেও বিদ্যুৎ চলে আসতে পারে। এখানে সাধারণ প্রাথমিক নির্দেশনা দেওয়া হলো। এটি চিকিৎসকের বিকল্প নয়।
প্রথম কাজ: বিদ্যুৎ বন্ধ করা
আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরাসরি ছোঁয়ার আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করুন। শুকনো জায়গায় দাঁড়িয়ে মেইন সুইচ নামিয়ে দিন অথবা সম্ভব হলে প্লাগ খুলুন। মেইন সুইচ কোথায় আছে, তা আগেভাগেই সবার জানা থাকা দরকার।
সংযোগ বন্ধ করা না গেলে
যদি বিদ্যুৎ বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তাহলে খালি হাতে আক্রান্তকে টানবেন না। শুকনো কাঠ, প্লাস্টিক বা অন্য অপরিবাহী জিনিস দিয়ে তাকে বিদ্যুতের উৎস থেকে সরানোর চেষ্টা করা যেতে পারে, তবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ভেজা মেঝে বা ভেজা জিনিস ব্যবহার করবেন না। উচ্চ ভোল্টেজের তার বা ছিঁড়ে পড়া লাইন হলে কাছেই যাবেন না, দূর থেকে সাহায্য ডাকুন।
বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার পর
- দ্রুত জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
- ব্যক্তি জ্ঞান হারালে বা শ্বাস স্বাভাবিক না থাকলে প্রশিক্ষিত কেউ থাকলে প্রাথমিক জীবনরক্ষা পদ্ধতি দিতে পারেন; না থাকলে চিকিৎসা সহায়তা না আসা পর্যন্ত আশ্বস্ত করুন এবং নজরে রাখুন।
- তাকে আরামদায়ক অবস্থায় শুইয়ে রাখুন এবং অযথা নড়াচড়া করাবেন না, বিশেষ করে উঁচু থেকে পড়ে গেলে।
- পোড়া জায়গা থাকলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে হালকাভাবে ঢেকে রাখুন; মলম, টুথপেস্ট বা ঘরোয়া জিনিস লাগাবেন না।
সামান্য শক লাগলেও ডাক্তার দেখান
অনেক সময় বাইরে থেকে কিছু বোঝা যায় না, কিন্তু শরীরের ভেতরে, বিশেষ করে হৃদস্পন্দনে প্রভাব পড়তে পারে। তাই সুস্থ মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশু বা প্রবীণদের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হোন।
ঘটনার পরে
যে যন্ত্র বা সংযোগ থেকে শক লেগেছে, তা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত ব্যবহার করবেন না। মেইন সুইচ বন্ধ রেখে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ানকে দিয়ে কারণ খুঁজে বের করান। পরিবারের সবাই যেন শান্ত থেকে এই ধাপগুলো মনে রাখে, সেই চর্চা রাখুন।
আগে থেকে প্রস্তুতি রাখুন
পরিবারের অন্তত একজন সদস্য যদি প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেন, তবে জরুরি মুহূর্তে অনেক সাহায্য হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা বিভিন্ন সংস্থা এমন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। নিকটস্থ হাসপাতালের ঠিকানা ও যোগাযোগের মাধ্যম আগে থেকে জেনে রাখুন। বাসায় একটি প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স রাখুন। মনে রাখবেন, এখানকার নির্দেশনা সাধারণ ধারণা মাত্র; নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত জরুরি সেবাদাতার পরামর্শই চূড়ান্ত।
মনে রাখুন, আগে নিজের নিরাপত্তা, তারপর অন্যকে সাহায্য। তাড়াহুড়োয় আরেকজন আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।