নিরাপত্তা ২৭/০৯/২০২৬
কালবৈশাখী বা বর্ষার বজ্রঝড়ে প্রতিবছর অনেকে আহত হন, যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়। বজ্রপাত আটকানো যায় না, কিন্তু নিজের আচরণ ঠিক রাখলে ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।
ঝড় শুরু হলে নিজের নিরাপত্তা
বজ্রের শব্দ শোনা গেলেই বুঝবেন বিপদ কাছে আছে। তখন পাকা ও বন্ধ ঘরে থাকুন। খোলা মাঠ, নদী বা পুকুরের পাড়, উঁচু গাছের নিচ এবং ছাদে থাকা বিপজ্জনক। ঘরের ভেতরেও জানালা, ধাতব গ্রিল ও দেয়ালে লাগানো তারের কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো।
ঘরের ভেতরে যা এড়াবেন
- বজ্রপাতের সময় গোসল বা বাসন ধোয়ার মতো পানির কাজ করবেন না।
- তার-যুক্ত ফোন বা চার্জে লাগানো যন্ত্র ব্যবহার করবেন না।
- খোলা জানালার ধারে বা বারান্দায় দাঁড়াবেন না।
- ভেজা হাতে সুইচ বা প্লাগ ধরবেন না।
যন্ত্রপাতি বাঁচানোর উপায়
বজ্রপাতে কাছাকাছি লাইনে হঠাৎ উচ্চ ভোল্টেজ তৈরি হতে পারে, যা টিভি, রাউটার, কম্পিউটার বা ফ্রিজের ক্ষতি করে। ঝড় আসার আগে সম্ভব হলে দামি যন্ত্রের প্লাগ সকেট থেকে খুলে রাখুন। প্লাগ খোলা সম্ভব না হলে যন্ত্র বন্ধ রাখুন। ভালো মানের মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করুন, তবে কোনো মাল্টিপ্লাগই বজ্রপাতের পূর্ণ নিরাপত্তা দেয় বলে ধরে নেবেন না। বিভিন্ন মাল্টিপ্লাগ দেখে ব্যবহারের উপযোগী পছন্দ করতে পারেন।
আর্থিং ও লাইটনিং প্রোটেকশন
বহুতল ভবনে বা বড় স্থাপনায় বজ্র-নিরোধক ব্যবস্থা এবং সঠিক আর্থিং থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজ অবশ্যই যোগ্য প্রকৌশলী বা ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে করাতে হবে। নিজে আর্থিং তার লাগানো বা বদলানোর চেষ্টা করবেন না। ভবনের আর্থিং নিয়মিত পরীক্ষা করানো ভালো।
ঝড় থেমে গেলে
ঝড় থেমে গেলেও ছিঁড়ে পড়া বা ঝুলে থাকা তার থেকে দূরে থাকুন, কারণ তাতে বিদ্যুৎ থাকতে পারে। এলাকায় এমন তার দেখলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানান। ঘরে যদি কোনো সুইচ বা সকেটে পোড়া গন্ধ, কালো দাগ বা শব্দ পান, মেইন সুইচ বন্ধ করে ইলেকট্রিশিয়ান ডাকুন।
গাড়ি, ছাদ ও খোলা জায়গায়
যদি ঝড়ের সময় বাইরে থাকেন এবং আশপাশে পাকা আশ্রয় না থাকে, তাহলে উঁচু গাছ, খুঁটি ও ধাতব বেড়ার কাছ থেকে সরে নিচু জায়গায় পা একসঙ্গে রেখে উবু হয়ে বসার কথা প্রচলিত পরামর্শে বলা হয়। তবে সবচেয়ে ভালো হলো ঝড়ের আভাস পেলেই আগে থেকে নিরাপদ ঘরে ফিরে যাওয়া। আবহাওয়ার পূর্বাভাস শুনে রাখুন এবং মাঠে বা নদীতে থাকা শিশু ও গুরুজনদের সতর্ক করুন। ঝড় চলাকালীন ছাদে কাপড় তুলতে বা অ্যান্টেনা ঠিক করতে যাবেন না।
ঝড়ের সময় সতর্ক থাকা মানে ভয় পাওয়া নয়, বরং ছোট কিছু অভ্যাস মেনে চলা। এতে নিজের প্রাণ এবং ঘরের দামি জিনিস, দুটোই বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।