নিরাপত্তা ১৮/০৮/২০২৬
বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত বড় দুর্ঘটনার আগে প্রায়ই ছোট ছোট সংকেত পাওয়া যায়। সমস্যা হলো, আমরা এগুলোকে সাময়িক ভেবে উপেক্ষা করি। এই সংকেতগুলো চিনে রাখলে সময় থাকতেই পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
কোন লক্ষণগুলো বিপদের ইঙ্গিত দেয়
- প্লাস্টিক বা রাবার পোড়ার মতো গন্ধ, উৎস স্পষ্ট না হলেও।
- সুইচ, সকেট বা প্লাগ স্পর্শে অস্বাভাবিক গরম।
- প্লেটের গায়ে কালো বা বাদামি দাগ।
- সুইচ চাপলে বা প্লাগ লাগালে স্ফুলিঙ্গ বা চড়চড় শব্দ।
- বাতি বারবার মিটমিট করা বা হঠাৎ কমবেশি হওয়া।
- ব্রেকার বারবার ট্রিপ করা।
- সামান্য ছোঁয়াতেই হালকা ঝিনঝিন বা শক অনুভব হওয়া।
- তারের আবরণ গলে যাওয়া, ফুলে ওঠা বা ফেটে যাওয়া।
পোড়া গন্ধ পেলে প্রথম কাজ
গন্ধের উৎস খোঁজার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। যে যন্ত্র থেকে গন্ধ আসছে বলে মনে হয়, সম্ভব হলে সেটির সুইচ বন্ধ করুন। উৎস বোঝা না গেলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন। ধোঁয়া বা আগুন দেখলে ঘর থেকে বেরিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানান। আগুন লাগলে কী করবেন, তা আলাদা লেখায় বিস্তারিত বলা আছে।
গরম সুইচ বা সকেটের অর্থ
গরম হওয়ার সাধারণ কারণ ঢিলা সংযোগ বা অতিরিক্ত লোড। এটি ধীরে ধীরে আবরণ গলিয়ে ফেলে। এমন সুইচ বা সকেট ব্যবহার বন্ধ রাখুন এবং নিজে খুলে ঠিক করার চেষ্টা না করে মেইন সুইচ বন্ধ রেখে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে বদলান। নতুন সুইচ ও সকেট বেছে নিতে পারেন।
ব্রেকার বারবার ট্রিপ করলে
ব্রেকার ট্রিপ করা মানে সুরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে এবং কোথাও সমস্যা আছে। বারবার সুইচ উঠিয়ে চালু করা, ব্রেকার বাইপাস করা বা বড় ব্রেকার লাগানো খুবই বিপজ্জনক। আসল কারণ খুঁজে বের করতে একজন যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ানের সাহায্য নিন।
সচেতনতাই প্রথম সুরক্ষা
পরিবারকে প্রশিক্ষণ দিন
বাড়ির প্রত্যেক সদস্যকে, এমনকি বড় শিশুদেরও, শেখান পোড়া গন্ধ পেলে কী করতে হবে: নিজে যন্ত্র ঘাঁটাঘাঁটি না করে বড় কাউকে জানানো এবং প্রয়োজনে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া। রাতে ঘুমানোর আগে একবার ঘরের চারপাশে ঘুরে দেখার অভ্যাস করুন কোনো যন্ত্র অস্বাভাবিকভাবে গরম কি না। যে বাসায় ধোঁয়া শনাক্তকারী অ্যালার্ম আছে, সেখানে এর ব্যাটারি নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
নিজের ঘরের নাক-কান-চোখ সজাগ রাখুন। অস্বাভাবিক গন্ধ, শব্দ বা গরম অনুভব করলে ভান করবেন না যে সব ঠিক আছে। পরিবারের সবাইকে এই লক্ষণগুলো জানিয়ে রাখুন, যাতে যে কেউ বিপদ আঁচ করতে পারে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।