নিরাপত্তা ০৭/০৮/২০২৬
লোডশেডিং হলে আইপিএস ও জেনারেটর আমাদের স্বস্তি দেয়। কিন্তু এ দুটি যন্ত্র ভুলভাবে ব্যবহার করলে আগুন, শক বা বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই কিছু মৌলিক নিয়ম জানা থাকা দরকার।
আইপিএসের সাধারণ যত্ন
আইপিএস ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ জমা রাখে এবং লাইন না থাকলে তা থেকে সরবরাহ দেয়। এটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল আছে, পানি ছিটকে আসে না এবং শিশুরা সহজে হাত দিতে পারে না। ব্যাটারির পানি বা টার্মিনাল পরীক্ষা এবং সংযোগের কাজ যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান করবেন।
লোড হিসাব করুন
- আইপিএস বা জেনারেটরের ক্ষমতার চেয়ে বেশি যন্ত্র একসঙ্গে চালাবেন না।
- লোডশেডিংয়ের সময় ফ্যান, বাতি ও জরুরি যন্ত্র আগে বেছে নিন, হিটার বা গিজারের মতো বেশি বিদ্যুৎ টানা যন্ত্র চালাবেন না।
- কোন যন্ত্রের জন্য কত ওয়াট লাগে তা হিসাব করে আইপিএস বা জেনারেটর বাছাই করুন।
জেনারেটর ব্যবহারে সতর্কতা
পেট্রোল বা ডিজেলের জেনারেটর থেকে ক্ষতিকর ধোঁয়া বের হয়, যাতে কার্বন মনোক্সাইড থাকে। এটি ঘরের ভেতরে বা বদ্ধ জায়গায় কখনো চালাবেন না, খোলা ও বাতাস চলাচলকারী স্থানে রাখুন। জ্বালানি ভরার আগে জেনারেটর বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন এবং জ্বালানি নিরাপদ স্থানে রাখুন। ভেজা আবহাওয়ায় বা বৃষ্টিতে খোলা অবস্থায় চালানো ঠিক নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
জেনারেটর বা আইপিএসের সংযোগ বাড়ির মূল লাইনের সঙ্গে নিজে জুড়বেন না। ভুল সংযোগে বিদ্যুৎ উল্টো দিকে ফিরে গিয়ে লাইনের কর্মীদের প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এজন্য যথাযথ চেঞ্জওভার ব্যবস্থা দরকার, যা যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান লাগাবেন এবং কাজের সময় মেইন সুইচ বন্ধ থাকবে। কোনো ব্রেকার বা ফিউজ বাইপাস করবেন না।
রক্ষণাবেক্ষণের অভ্যাস
আইপিএসের ব্যাটারি কিছুদিন পর দুর্বল হয়ে যায়, তাই মাঝে মাঝে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো। জেনারেটর দীর্ঘদিন না চালালেও মাঝে মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী চালিয়ে দেখুন। উভয় যন্ত্রের পাশে দাহ্য জিনিস রাখবেন না। আগুন নেভানোর ব্যবস্থা কাছে রাখা এবং পরিবারের সবাইকে বিপদে কী করতে হবে তা জানিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
লোডশেডিংয়ের আগে মোবাইল, পাওয়ার ব্যাংক ও টর্চ চার্জে রেখে দিন। মোমবাতি জ্বালানোর সময় সতর্ক থাকুন, কারণ অন্ধকারে মোমবাতি থেকে আগুন লাগার ঘটনা কম নয়। বাতাস চলাচলকারী নিরাপদ জায়গায় রেখে ব্যবহার করুন।
বাড়িতে ভালো মানের ব্রেকার ও মাল্টিপ্লাগ থাকলে ওভারলোডের ঝুঁকি কমে, দেখে নিতে পারেন সার্কিট ব্রেকার। নিয়ম মেনে চললে লোডশেডিংয়ের কষ্ট কমানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাও বজায় থাকবে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।