নিরাপত্তা ১৭/০৯/২০২৬
বাথরুম বাড়ির সবচেয়ে ভেজা জায়গা। ভেজা শরীর ও পানি বিদ্যুতের পরিবাহী হিসেবে কাজ করে, তাই এখানে সামান্য ত্রুটিও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি অনেক কমে।
বাথরুমে কোন যন্ত্র থাকে
সাধারণত থাকে এক্সহস্ট ফ্যান, লাইট, গিজার বা ওয়াটার হিটার, কখনো শেভার বা হেয়ার ড্রায়ারের সকেট। প্রতিটির জন্য সঠিক ইনস্টলেশন ও নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি।
সুইচ ও সকেটের অবস্থান
সুইচ ও সকেট ট্যাপ, শাওয়ার ও বেসিন থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন। সম্ভব হলে বাথরুমের সুইচ দরজার বাইরে বসানো নিরাপদ। বাথরুমে সকেট রাখতে হলে সেটি আর্দ্রতা-সহনশীল ও ঢাকনাযুক্ত হওয়া ভালো। পানির ছিটা লাগে এমন জায়গায় সাধারণ সুইচ-সকেট ব্যবহার করবেন না। বাথরুমের তার বসানো বা সংযোগ বদলানো যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ।
প্রতিদিন যা মানবেন
- ভেজা হাত বা ভেজা পায়ে কোনো সুইচ, প্লাগ বা যন্ত্র ছোঁবেন না।
- গোসলের সময় হেয়ার ড্রায়ার, শেভার বা চার্জার পানির কাছে রাখবেন না।
- বাথরুমের ভেতরে মোবাইল চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করবেন না।
- এক্সটেনশন তার বা মাল্টিপ্লাগ বাথরুমে টেনে আনবেন না।
- সুইচ বা সকেটের ভেতরে পানি ঢুকলে ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
গিজার ও ওয়াটার হিটার
গিজার চালু অবস্থায় ট্যাংক বা পাইপ ধরে টানাটানি করবেন না। গিজার বসানো, সংযোগ দেওয়া ও আর্থিং নিশ্চিত করা অবশ্যই যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ। পানিতে হালকা শক অনুভব করলে বা পানির সঙ্গে ঝিনঝিন অনুভূতি হলে সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বন্ধ করে পরীক্ষা করান। সার্কিটে উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন ভালো মানের সার্কিট ব্রেকার, থাকা উপকারী।
স্যাঁতসেঁতে ভাব ও মরিচা
আর্দ্রতার কারণে সুইচ-সকেটের ধাতব অংশে মরিচা বা সবুজ দাগ পড়ে এবং সংযোগ আলগা হয়। প্লেট বিবর্ণ, ফাটা বা গরম হলে বদলে ফেলুন। বাথরুমের এক্সহস্ট ফ্যান চালু রাখলে আর্দ্রতা কিছুটা কমে।
বাথরুমের আলো ও ফ্যান
বাথরুমের বাতি ও এক্সহস্ট ফ্যান আর্দ্রতা সহ্য করার মতো হওয়া উচিত। বাতির হোল্ডারে পানি ঢুকলে শর্ট সার্কিট বা শক হতে পারে, তাই ঢাকনাযুক্ত বা সিল করা ফিটিং ব্যবহার করুন। বাতি বদলানোর সময় অবশ্যই সুইচ বন্ধ করে নিন এবং শুকনো মেঝেতে স্থিতিশীল মই বা টুলে দাঁড়ান। ভেজা হাতে বাল্ব ধরবেন না। বাল্ব বা ফিটিংয়ে পানি জমে থাকলে ব্যবহারের আগে ইলেকট্রিশিয়ানকে দেখান।
শেষ কথা, বাথরুমে বিদ্যুতের ব্যাপারে কখনো আন্দাজে কাজ করবেন না। সন্দেহ হলে ব্যবহার বন্ধ করে ইলেকট্রিশিয়ান ডাকুন।
এই নিয়মগুলো একবার জেনে রাখলেই হবে না, নিয়মিত চর্চা করতে হবে। পরিবার, সহকর্মী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে এসব আলোচনা করুন, কারণ সবার সচেতনতাই সম্মিলিত নিরাপত্তার ভিত্তি। সন্দেহ হলে দেরি না করে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ানের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে আমাদের যোগাযোগ পাতা দেখুন।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।